Sunday, August 26, 2018

বড় ভয় হয় !


"তোমাকে" বলতে  একটি অদৃশ্য স্পর্শকাতর শব্দ
অন্তরে অন্তস্হলে বেড়ে উঠা নিঃশ্বাসে হৃদয়ের ভাষা
ছোট্ট শব্দের ভয়ঙকর অনুভূতি তবুও সুখের ছন্দ
আমি তোমায় ভালবাসি।
বড় ভয় হয়
যতই বলি মানুষই সেরা অর্থের দুনিয়ায়
তবুও থেকে যায় সন্দেহের বিষ মানবের হৃদয়ে
ভাবি এক বার বলব তোমায়, ফের মন পিছু টানে
আমি ভালবাসি তোমায়।
বড় ভয় হয়
দীর্ঘ জীবনের সঙ্গী তুমি হবে কি আপন
করি পণ যা হবার তা হবে নিয়তি যারে কয়
হয় যদি বদনাম হউক না আরো তবু আশাহত নই
বলব ভালবাসি তোমায়।
বড় ভয় হয়
কোন ভাষায় শুরু করি যদি মনে লাগে কষ্ট
শিশু হতে কৈশরে জাগেনি আশা ভাবিনি কখনও, যৌবনে
বলতে হবে এই তোমাকেই লুকায়িত স্বপ্নের রাণী
তুমি,ভালবাসবে কি গো আমায়।
বড় ভয় হয়
যদি আসে কাল বৈশাখীর ঝড় ভেঙ্গে দেয় 
যদি তোমার হৃদয়ে বাসা বাধে অন্য সূখের ঘর
আর যদি ভাবো এ আমি কেমন স্বার্থপর দ্বিধায় রই
 বলবো কি তোমায় ভালবাসি বার বার।
বড় ভয় হয়
যদিও চোঁখের চাহনি তোমার আমারি কথা কয়,দেখি
আমার প্রতি তোমার প্রবল আর্কষনের অপরিসীম টান,
ভেবেছি বহুবার এ কি যথেষ্ট নয়,তোমার মন বুঝবার
বলব কি ভালবাসি তোমায় শত বার।
বড় ভয় হয়
এবার হয়তো করবো জয় যা আছে জীবনে
বলবই এবার বার বার চিৎকার করে
জাগিয়ে দেবো পুরো পৃথিবীর মানব কূলে
বলব কেবল
আমি ভালবাসি,বাসছি,বাসবো।

আমার ভয় হয়


আমার ভয় হয়
এতোটা কাছে তুমি এসো না
যতটা কাছে থাকলে তোমার শ্বাস- প্রশ্বাস আমি অনুভব করতে পারবো।
আমার ভয় হয়
এতোটা কাছে তুমি এসো না,
যতটা কাছে থাকলে আমার হাত তোমার গাল কে ছুঁয়ে দিবে।
আমার ভয় হয়
এতোটা কাছে তুমি এসো না.
যতটা কাছে থাকলে তোমার কপাল এসে ঠেঁকবে আমার কপালে
দয়া করো...
এতটা কাছে এসো না
যতটা কাছে থাকলে তোমার বিয়োজনের কষ্ট আমার সহ্য র বাঁধ অতিক্রম করে
আমার তোমাকে হারাতে যে
ভীষন ভয়
তাইতো দূর থেকেই 

তোমাকে ভালোবেসে যাবো ।

Wednesday, August 22, 2018

কুরবানি এমন হওয়া চাই!

—আবু তাহের মিসবাহ (আদীব হুজুর) দা.বা.

"আব্বাকে কোরবানি করতে দেখেছি। আব্বার সঙ্গে কোরবানির হাটে গিয়েছি বহুবার; প্রথমে অবুঝ আনন্দের আকর্ষণে,পরবর্তীতে কিছুটা অনুভব অনুভূতি সঙ্গে করে। কোরবানির হাটে আব্বাকে দেখেছি। কেমন দেখেছি তা হয়ত বুঝিয়ে বলতে পারবো না,শুধু বলতে পারি,সেখানে আব্বার কাউকে কখনো দেখিনি। রওয়ানা হওয়ার আগে আব্বা দু'রাকাত নামায পড়েন। সে নামাযে আব্বার দাড়ি তো ভেজে জায়নামাযও ভেজে। মোনাজাতে সেকি কাকুতি-মিনতি! দেখেছি, শিখতে পারিনি। খরিদ করার পর আব্বার প্রথম কাজ হলো পশুটিকে 'আদর' করা এবং আশ্চর্য, কোন পশুকে দেখিনি আব্বার আদর প্রত্যাখ্যান করতে!
কয়েকবছর আগে - আব্বার তখন খুব বিপর্যস্ত জীবন এবং জীবনে সেই একবার তিনি শরীকে কোরবানি করেছেন- কোরবানির হাটে আব্বার সঙ্গে আছি; দেখি, চোখে ধরে এমন একটি গাভীর দিকে মায়ার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলছেন, দিলের তামান্না, তোকে কোরবানি দেই, যাবি আমার সঙ্গে! আমার যে তাওফীক নাই তোকে নেয়ার।
প্রিয় পাঠক, এমন বাবার কোরবানি দেখা সন্তানকে কি ভাগ্যবান বলা যায় না! প্রার্থনা করি,প্রতিটি মুসলিম সন্তান যেন দেখতে পায় আমার বাবার মত কোরবানি।
আব্বা কোরবানির পশু বাড়িতে আনেন ঈদের দু'একদিন আগে। সেই পশুকে তিনি এমন যত্ন করেন যেন আদরের সন্তান! কত বার যে তাঁর তিরস্কার শুনেছি গরুটার ঠিকমত 'খিদমত' হচ্ছে না বলে! কোরবানির গরুর চারপাশে কয়েল জ্বেলে দেন, যাতে মশা কষ্ট না দেয়। একবার তো রীতিমত মশারি টানানোর ব্যবস্থা করেছিলেন! হাসছো তুমি! আমি কিন্তু সত্য কথা বলছি!
কোরবানির দিন আমরা গোসল করি ; আব্বা কোরবানির পশুকে 'স্নান' করান। ঈদের নামায পড়ে আসার পরে তিনি একেবারে বদলে যান! আমার কাছে একেবারেই অচেনা হয়ে যান! কোরবানির পশুকে যখন শোয়ানো হয় আব্বার চোখে তখন পানি এসে যায়, কখনো শব্দ করে কেঁদে ওঠেন। বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার বলে যখন ছুরি চালান তাঁর বেচায়ন অবস্থা হয় দেখার মত; যেন পশুর গলায় নয় তিনি ছুরি বসিয়েছেন আপন সন্তানের গলায়! এমন কোরবানি আমি আর কারো দেখিনি! এমন মমতার সঙ্গে ছুরি হাতে নিলেই হয় কোরবানি, নইলে হয়ে যায় কসাই ও জবাই।
কোরবানির প্রতিটি পশুকে আল্লাহ যেন দান করেন আমার বাবার মত কোরবানি 'কারনেওয়ালা'!
...কথাগুলো কেন বললাম জানো! গতবছর কোরবানির হাটে একটি দৃশ্য দেখেছিলাম, মনে হয়েছিলো, একটি 'পশু' একটি পশুকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে! কোরবানির প্রতিটি পশুকে আল্লাহ যেন এমন পশু থেকে রক্ষা করেন।
হে ভাই! তুমি যখন কোরবানির হাটে যাবে, কোরবানির পশু খরিদ করবে এবং কোরবানির পশুর গলায় ছুরি চালাবে তখন আমার এ কথাগুলো মনে রেখো।

Sunday, August 19, 2018

একদম অরজিনাল


একটু আগে আসায় জানলার ধারে একটা সিট পেয়ে গেছি। যাওয়া অবশ্য খুব বেশি দূর নয়, এই খড়গপুর পর্য্যন্ত। গাড়ী স্টেশান পার হতেই আমি বেশ জমিয়ে বসলাম, হ্যান্ড ব্যাগ থেকে নতুন কেনা বইটা বার করে নাকের ডগায় চশমাটা আটকে জানলার দিকে একটু কাত হয়ে বাইরের দিকে ফিরলাম।
গাড়ী তখন প্ল্যাটফর্ম ছাড়িয়ে একটু এগিয়েছে, জানলা দিয়ে দেখলাম লেভেল ক্রসিং, রাস্তা একটু একটু করে অদৃশ্য হোল … প্রথমে শহুরে পিচের রাস্তা শেষ হয়ে একটু সাদা মাটি, একটু সবুজ বড় বড় ঘাস, তারপর আস্তে আস্তে লাইনের ধারের রেলের কোয়ার্টার আর বসত বাড়ীগুলো কমে এলো। এবড়ো খেবড়ো মাঠ, এর ওর জমির পার্টিশান দেওয়া আধ ভাঙা পাঁচিল, মাঠের মধ্যে কোন এঁদো নিচু জায়গায় জমে থাকা জল … আর তার পাশেই চড়তে থাকা গরু আর ছাগলের দঙ্গল।
এই সব সাত পাঁচ দেখতে দেখতেই মিনিট দশেক কেটে গেছে, খানিকটা অন্যমনস্ক হয়ে পরেছিলাম, একটু পরে ঘার কাত করে দেখি গাড়ী কখন হাওড়ার চত্বর ছাড়িয়ে এগিয়ে গেছে, চারিদিকে কেমন সবুজ মাঠ, মাঝে মাঝে পানা পুকুর আর তার পাশেই কিছু বসতবাড়ী … মানুষজন, দু একটা কুকুর আর বাড়ীর দাওয়ায় নতুন জন্মানো শিশুর দল। কেউ ছিপ ফেলেছে, কেউ বাড়ীর দাওয়ায় বসে গল্প করছে, শিশুরা হুড়োহুড়ি করে খেলছে, কিশোর কিশোরীরা ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে … চিরন্তন বাংলার গ্রাম।
দেখতে দেখতে বেশ সময় কেটে যাচ্ছিল, এমন সময় কানের কাছে ডাক ভেসে এলো – “চায়, গরম চায় …”। ব্যাস, ধ্যান ভঙ্গ। বাইরের দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে কামরার মধ্যে তাকালাম। সবাই বেশ নিজের জায়গায় আরাম করে বসেছে, সেরকম ভিড় বলে আর মনে হচ্ছে না, গোটা কয়েক ফেরিওয়ালা নিজের নিজের বেসাতি করে বেড়াচ্ছে। চা, চানাচুর, ঘর গেরস্থালীর টুকিটাকি জিনিস চিরুনি, আলতা, সেপটিপিন বিক্রি হচ্ছে।
আমি প্লাস্টিকের কাপে এক কাপ চা নিয়ে একটা চুমুক দিয়ে কামরার মানুষগুলোর দিকে তাকালাম। নানা বয়সের নানান প্রকৃতির মানুষ, কেউ পাশের লোকের সাথে গল্প করছে, কেউ মুখের সামনে খবরের কাগজ ধরে মগ্ন, অনেকেই মোবাইলে নিজের কোন প্রিয়জনের সাথে গল্পে ব্যাস্ত। আমি আবার একটু পুরনোপন্থী, কাজেই ওসব কিছুই না করে আমি চায়ে চুমুক দিতে দিতে এর ওর মুখের দিকে তাকাতে লাগলাম। মানুষের মুখ একটা আশ্চর্য জিনিস, দুজনের মুখ কোনদিন এক হয় না।
তিন চার জনের মুখ পার হয়ে আমার দৃষ্টিটা একজনের মুখের ওপর গিয়ে দাঁড়িয়ে পরলো। একটু গোলগাল মুখ, বয়স প্রায় আমাদেরই মতো, পঞ্চাশের আশেপাশে, মাথায় চুল কম, যা আছে তাও কিছুটা কাঁচাপাকা। কেমন যেন চেনাচেনা লাগছে, কোথাও আগে দেখেছি বলে মনে হচ্ছে। অদ্ভুত ব্যাপার, ভদ্রলোকও আমার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন বলে মনে হোল, আমি তাকাতেই কেমন চোখাচোখি হয়ে গেল। আমার মনের ভুল কিনা জানি না, ভদ্রলোকের মুখেও মনে হোল সামান্য একটু হাসি খেলে গেল। মজার ব্যাপার তো, ওনারও কি আমাকে চেনা মনে হচ্ছে নাকি?
আমি কেমন বোকা হয়ে গিয়ে চায়ে মনোযোগ দিলাম। এই সময় ট্রেন একটা স্টেশানে এসে থামলো, আমার ঠিক সামনে থেকে একজন যাত্রী নেমে গেলেন আর গোলগাল ভদ্রলোক একটু সরে এসে ঠিক আমার সামনের সিটটা পেয়ে গেলেন। আবার আর চোখে একটু চাইলাম, ভদ্রলোক ঠিক আগের মতো আমার দিকেই তাকিয়ে। কি মুশকিল, আমি কি শাহারুখ খান না আমির খান, আমার মুখে দেখবার কি আছে? বিরক্ত হয়ে চায়ের কাপটা জানলার বাইরে ছুঁড়ে ফেলে বইটা নাকের ওপর তুলে ধরলাম। কিন্তু তাতে নিরস্ত না হয়ে ভদ্রলোক মাথাটাকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে একটু ফিসফিস করে বললেন – “কি রে, চিনতে পারলি না তো?”
আমি নাকের ওপর চশমাটা একটু এঁটে এবার ভালো করে তাকালাম, মুখটা আবার ভীষণ চেনা বলে মনে হোল কিন্তু তাও ঠিক মনে করতে পারলাম না। একটু রুক্ষ স্বরে বললাম –“আপনি আমাকে চেনেন নাকি? আপনাকে তো চিনতে পারলাম না”।
-“তুই মাহবুব তো? মানে যাদবপুরের কেমিকাল ইঞ্জিনীয়ারিং, পঁচাশির পাস আউট?”
এবার আমার খাবি খাওয়ার পালা, কথাটা একদম ঠিক। আমি অবাক চোখে তাকিয়ে নিজের স্মৃতির সমুদ্রে ডুবে গেলাম। ভদ্রলোক আবার ফিসফিস করে বললেন – “আমি সহদেব”।
আবার খাবি খেলাম … সহদেব, মানে আমাদের দেবু। আবার তাকালাম, ঠিকই তো, সেই গোলপানা মুখ, এখন আবার গালে আর থুতনিতে বেশ চর্বি জমে গেছে। চোখের তলায় বেশ বড় দুটো ফ্যাট ব্যাগস, মাথার ঘন চুল উধাও, নাকের দুপাশে বয়সের গভীর দাগ। ওর চোখে যাদবপুরে কোন চশমা ছিল না, এখন দুটো মোটা লেন্সের চশমা।
-“মাই গড, দেবু, কি চেহারা করেছিস?”
-“আমার থেকে তোর চেহারা আরো বেশি পালটেছে মাহি”।
-“কি রকম।”
-“অত সুন্দর কোঁকড়ানো চুল ছিল, এখন মাথা ভর্তি টাক। সুন্দর টানা চোখ ছিল, সারা যাদবপুরের মেয়েরা তাকাতো, এখন মোটা ভুরু, চোখ দুটোর নিচে চর্বি। সুন্দর সাদা দাঁত গুলোর বারোটা বাজিয়েছিস, কেমন ছোপ পরে গেছে … আর কত শুনবি। অবশ্য তোকে চেনা যায়”।
-“ভাই সবই বয়সের গুনাগার, এই পৃথিবীতে তো কমদিন হোল না। ছাড় ও কথা, কতদিন পরে দেখা, কোথায় আছিস বল”।
-“আরে ভাই, সে এক ইতিহাস। নানা জায়গায় ঘুরে এখন বছর পাঁচেক এশিয়ান পেইন্টস-এ আছি, মোটামুটি ভালো একটা পজিশন দিয়েছে।“
-“যাদবপুরের ক্যাম্পাস থেকে তো তুই বোধহয় শালিমার পেইন্টস-এ পেয়েছিলি?”।
-“হ্যাঁ, সে তো প্রায় এক যুগ আগের ব্যাপার। তোর কি খবর?”।
-“আরে, আমি তো দাদিনা কনসাল্টিং থেকে শুরু করেছিলাম, জানিস বোধহয়। তারপর যা হয়, এদিক ওদিক ঘুরতে ঘুরতে স্লামবার্জারে একটা ম্যানেজারিয়াল পজিশনে আছি। সে তো হোল, তা ঘর সংসারের কি অবস্থা? বিয়ে সাদি করেছিস তো?”
সহদেব বেশ একটু হাসলো। আমি ওর হাতে একটা চাপর মেরে একটু নিচু গলায় বললাম – “এই ছোট্ট একটা কথায় এতো হাঁসি কেন, শালা?”
সহদেব আবার একটু খিক খিক করে হেসে বললো – “নাঃ, আসলে তোর আর বৃষ্টিরর সেই লুকিয়ে লুকিয়ে লাইব্রেরীর পিছনে প্রেমের ব্যাপারটা মনে পরে গেল। সে যাক, আমি তো পাশ করার বছর দুয়েক বাদেই বিয়ের ব্যাপারটা সেরে ফেলেছিলাম। তোর?”
-“আমি তো বৃষ্টির কাছে ধাক্কা খেয়ে প্রায় বছর পাঁচেক বিয়ে করবো না বলে জেদ করে বসেছিলাম। তারপর মা কান্নাকাটি করায় ধ্যারাকসে একটা নামিয়ে দিলাম। সব বাবা মায়ের পছন্দ, আমি ফটো পর্যন্ত দেখিনি। কলকাতার বাইরে পোস্টেড ছিলাম, বাড়ীতে পৌঁছই বিয়ের আগেরদিন। যাক, আমার তো এক মেয়ে, তোর ইস্যু কটা?”
-“এক ছেলে, এক মেয়ে”।
-“কি পড়ছে?”
-“ছেলেটা সেন্টজেভিয়ার্সে ফিজিক্স নিয়ে মাস্টার্সে ঢুকেছে। মেয়ে সাইন্স কলেজে বায়োতে গ্র্যাজুয়েট করছে, ফাইনাল ইয়ার। তোর মেয়ে কোন লাইনে গেলো?”
-“ওকে বি.ই. কলেজে দিয়েছিলাম, সিভিল ইঞ্জিনীয়ারিং পাশ করে এখন ডি.সি.এল.-এ আছে। গত বছর বিয়েও দিয়েছি, জামাই আর মেয়ে দুজনেই খড়গপুরে পোস্টেড, ওদের ওখানেই যাচ্ছি। তা তুই এতো হন্তদন্ত হোয়ে কোথায় চললি?”
উত্তরটা শোনার আগেই মোবাইলে একটা ফোন এলো, জামাই রাফিক, শ্বশুরমশাইয়ের খোঁজ খবর।
-“কি বাবা, এখন কোথায়? ট্রেন ঠিক সময়ে ছেড়েছে তো?”
-“হ্যাঁ বাবাজি, ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে, তবে তোমাদের ওখানে পৌঁছতে পৌঁছতে একটার বেশি হয়ে যাবে। আমার জন্য ব্যাস্ত হয়ো না, রিক্সা নিয়ে নেব”।
-“আপনি খড়গপুরের আগের স্টেশানে পৌঁছে একটা মিসড কল দিয়ে দেবেন, আমি গাড়ী নিয়ে অফিস থেকে চলে যাব। সময় হলে সুকু-ও আস্তে পারে, নাহলে ও সোজা বাড়ীতে চলে আসবে। ঠিক আছে?”
-“আরে অত ব্যাস্ত হবার কিছু ছিল না। অফিস থেকে আবার কস্ট করে নিতে আসবে। কি দরকার?”
-“না না, কিছু অসুবিধা নেই, বাবা”।
-“ঠিক আছে, আমি মিসড কল দিয়ে দেব। তাহলে একটু পরে দেখা হচ্ছে”।
_”বাই …”।
সহদেব কথা-বার্তা শুনছিল। আমি মোবাইলটা বন্ধ করে পাশে বইয়ের ওপর রেখে ওর দিকে তাকালাম। সহদেব বললো – “কি, মেয়ে জামাই নাকি?”
-“আরে কি আর করবো। জামাই গাড়ী নিয়ে স্টেশানে আসবে, তাই এক দু স্টেশান আগে মিসড কল দিতে বললো, তা সে যাক, তুই চললি কোথায়?”-“আরে ভাই, হঠাৎ পাঁশকুরায় একটা ইন্সপেকশান পরে গেছে। স্টেশান থেকে বেশ দূরে, তাই ট্রেনে রেল স্টেশান অবধি যাব, তারপর ওখানকার স্টাফদের সাথে জীপে বেশ ভেতরে, ঘন্টা দুয়েকের জার্নি”।
আমি মুখ দিয়ে সেই আগের মতো জোরে একটা শিসের মতো “ফুইইই” গোছের শব্দ করে বললাম – “ওরে শালা, তাহলে তো তোর আজ বড় খ্যাঁট। সাইটে যাবি, ঘন্টা কয়েক হাবিজাবি ডিসকাস করবি সাইট ইঞ্জিনীয়ারদের সাথে, তারপর নিশ্চয়ই গেস্ট হাউসে ফিরে রাত্রে বড়া খানা, তাই না?”
সহদেব প্রান খুলে খানিক্ষণ হাসলো, তারপর বললো – “সেটা ঠিকই বলেছিস, আজ আর ফিরতে পারবো না। কাজেই রাত্রে তো পাঁশকুরার কোন গেস্ট হাউসেই থাকতে হবে, খাওয়া দাওয়া নিশ্চয়ই ভালোই হবে, ব্যাপারটা প্রায় ভুলেই গিয়েছিলাম”।
পাঁশকুরা আসতে অবশ্য বিশেষ দূরে নেই। আমরা দুজনে যেন সেই তিরিশ বছর আগের যাদবপুরের দিনগুলোয় ফিরে গিয়েছিলাম। সেই সত্যেন্দার ক্যান্টিনে বসে আড্ডা, সেকেন্ড বা থার্ড ইয়ারে নিজের পৌরুষ দেখাতে দু একটা হাল্কা প্রেম ট্রেমের ব্যাপার, জয়ন্তীর সাথে আমারটা অবশ্য একটু জমে গিয়েছিল। কখনো চ্যানাচুর, কখনো চালমুগরা খেতে খেতে এই সব চললো। এতোদিন পরে সেই হারিয়ে যাওয়া যাদবপুরিয়ানের এক স্যাঙাতকে পেয়ে মন উজার করে পিছনে ফেলে আশা সময়ের উত্তাপ নিচ্ছিলাম। এর মধ্যেই নিজেদের মোবাইলের নাম্বার বদল হোল।
এক সময়ে পাঁশকুরা স্টেশান এসে গেল, সহদেব আমাকে জড়িয়ে ধরে বিদায় জানিয়ে নেমে গেল। ভিষণ ভালো লাগলো, ব্যাচমেটদের প্রায় সবাইকেই তো হারিয়ে ফেলেছি, তাই এতোদিন পর একজনকে পেয়ে মনে হোল অন্তত একজনের সাথে রিটায়ারমেন্টের পরেও যোগাযোগ রাখা যাবে। মাঝে সাঝে ওর বাড়ীতে যাওয়াও যায়, মেয়ের বিয়ের পর আমি আর আমার স্ত্রী একাই তো থাকি।
ঢিকির ঢিকির করে গাড়ী খড়গপুরের কাছে চলে এলো। এবার আমার মিসড কল দেওয়ার পালা। বাঁ পাশে বইয়ের ওপর মোবাইলটা হাতে নিতে গিয়েই অবাক, কোথায় মোবাইল! বই আর মোবাইল জানলার ধারেই ছিল, কাজেই পাশের লোকের নেওয়ার প্রশ্ন নেই, জানলার বাইরে থেকে নেওয়ার তো সুযোগই নেই। ব্যাগটা হাতড়ালাম, নেই, পকেটে … নেই। ভুরু কুঁচকে কি হোল তাই ভাবছি, হঠাৎ একটা পুরনো কথা মনে পরলো, বুকটা একটু কেঁপে উঠলো।
সহদেব। আর কে। ওর যাদবপুরেও এই ব্যাপারটা ছিল, নিজের অজান্তেই এর ওর জিনিস সরিয়ে নিত। পরে নিজের ব্যাগ থেকেই আবার লাজুক মুখে ফেরত দিত। আমরা সবাই জানতাম, ঠাট্টা ইয়ার্কি প্রচুর মারতাম কিন্তু ছেলেটার সত্যিই কোন দোষ ছিল না। এটা একটা রোগ, ডাক্তারী ভাষায় যাকে বলে “ক্লেপটোম্যানিয়াক”। মুখটা কেমন তেতো হয়ে গেল, চানাচুর আর চালমুগরার গন্ধ নিয়ে যেন একটা চোঁয়া ঢেকুর গলা দিয়ে ঠেলে বেরিয়ে এলো।
ধ্যাত, এতো বছর পরেও সহদেবের কোন চেঞ্জ নেই, তিরিশ বছর পরেও একদম অরিজিনাল।
শেষ

Thursday, July 5, 2018

ব্রেকিং- এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষনা

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষনা- এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ১৯ জুলাই প্রকাশিত হচ্ছে। ওইদিন সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর হাতে ফলাফলের সার-সংক্ষেপ তুলে দেয়ার মাধ্যমে ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বেলা ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে সব কলেজ-মাদ্রাসা, এসএমএস ও অনলাইনে ফল জানা যাবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মুহা. জিয়াউল হক যুগান্তরকে বলেন, ১৯ জুলাই ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। ২ এপ্রিল এই পরীক্ষা শুরু হয়ে শেষ হয় ১৩ মে। ১৪ মে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৩ মে শেষ হয়। সেই হিসাবে ৫৮ দিনে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে।

এবার সারা দেশে ১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে সাধারণ আট বোর্ডে শিক্ষার্থী ছিল ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন। মাদ্রাসা বোর্ডের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১২৭ জন। এছাড়াও কারিগরি শিক্ষায় পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪।

মুসলিম উম্মাহ্‌র অধঃপতনে জাতীয়তাবাদের ভূমিকা

"এক জাতি, এক ভূমি"- এই চেতনা ও আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একদা যে মুসলিম উম্মাহ্‌ পরিণত হয়েছিল বিশ্বের প্রভাবশালী সভ্যতায় সেই একই ...

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ