পৃথিবীর আবরণটা অনেক সুন্দর। তবে এর ভেতরটা কদর্যতায় ভরা।পৃথিবীর আসল রূপটাকে প্রকাশ করাই আমাদের উদ্দেশ্য।
Saturday, September 8, 2018
ভারতে সমকামিতা বেমানান নয়!
রবিঠাকুর ঠিকি বলেছিল, 'মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়!_____ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় করার বিরোধিতা করা যথার্থ ছিল, 'তার প্রমাণ : এই যেমন ভারতে সমকামিতা বৈধতার রায় নিয়ে আমি/আমরা যেভাবে হৈ-চৈ ফেলে দিয়েছি তাতেই আমাদের নির্বুদ্ধিতার পরিচয় পাওয়া যায়!
"গল্প: একলোক আদরযত্ন করে একটা কুকুর পুষেছিল, কুকুরটাকে উন্নত ভালো-ভালো খাবার দেয়। হঠাৎ একদিন লোকটি দেখল, তার পোষ্য কুকুর শিশুর পায়খানায় খাচ্ছে!___লোকটা বিষম ক্ষেপে গিয়ে কুকুরের উপর চড়াও হল।
সে বলছে, তরে এতো আদরযত্ন করে ভালো ভালো খাবার খাওয়াচ্ছি, কিন্তু তুই পায়খানা খাচ্ছিস? 'আসলে কুকুরে তো ভুল করেনি। ভুল ভাবনা মালিকের ছিল। কুকুরকে যতই ভালো খাবার দিন, আদরযত্ন করুন, সে কি তার কুকুরী খাসিয়ত ভুলে যেতে পারে? "কখনো না।
কুকুর নজিস দেখলে লোভ সামলাতে পারেনা, মুখ দিবেই।
তাই কুকুর ভুল করেনি! ভুল আপনের। কুকুর তার মূলগত চরিত্র ছাড়তে পারেনা।
যে, জাতি সৌভাগ্য লাভের আশায়
কুকুর, বানর ইত্যাদি জানোয়ারের সাথে বিয়ে করে।
যে, জাতি সম্পূর্ণ উলঙ্গ মানুষের লিঙ্গ ছুঁয়ে পূজা করে।
যে, জাতি গরু রক্ষার নামে মানুষ হত্যা করে।
যে, জাতি তার আপন সন্তান, বোনদের ঋতুস্রাবের সময় গোয়ালঘরে থাকা বাধ্যতামূলক। শুধু তাইনা প্রথম ঋতুস্রাবের সময় ২২'দিন বাবা-এবং ভাইদের চোখের আড়ালে (বাড়িছাড়া) থাকা বাধ্যতামূলক।
সেই জাতির কাছে সমকামিতা বৈধতা পাওয়া দেখে এমন অবাক, আশ্চর্য হওয়া মূর্খতা ছাড়া আর কি হতে পারে?
ওরা ইঁদুর, বানর, কুকুর, হাতি, সাপ সহ অনেক জীবজন্তুর পূজা করে। এটা তাদের ধর্মে পেয়ে এসেছে। তাছাড়া তারা লিঙ্গ পূজা করে বিধায় সমকামিতা ঐপূজার অংশও হতে পারে!
সুতরাং তাদের জন্য এইসব স্বাভাবিক বিষয়।
এনিয়ে হৈ-চৈ করার কি আছে?
কিন্তু অস্বাভাবিক বিষয় হল: এদেরকে আমাদের দেশের কিছুসংখ্যক মানুষ' যারা নিজেদের মুসলিম ও পরিচয় দিয়ে থাকে, সেই তারা ওই সমকামী, লিঙ্গপূজারীদেরকে পরম বন্ধু সম্বোধন করে। তাদের সাহায্য পরামর্শ নিয়ে চলে! তাহলে কি ধরে নেবো, তাদের ও পূর্বপুরুষরা ঐ জাতি-গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিল? 'যেমন কুকুর তার মূলগত চরিত্র ছাড়তে পারেনা, তেমনি এরাও তাদের বুনিয়াদী জাতভাইদের সঙ্গ ছাড়তে পারেনি!
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ হিসেবে আমাদের দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। তাই আমাদের আচার আচর , চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ আলাদা।
পশুর সাথে যে, মানবজাতির আচার আচরণের মিল থাকে, তাদেরকে মানুষ বলবেন কীভাবে?
তবে পশুরা কিন্তু সমকামিতা করেনা। তা-হলে ওরা তো পশুর চাইতেও নিকৃষ্ট।
আর এই নিকৃষ্ট জাতের সাথে মানুষের বন্ধুত্ব হতে পারে কী???
উৎকণ্ঠিত গোটা আরব! ভয়ার্ত পুরো মুসলিমবিশ্ব
আমেরিকার পা-চাটা গোলাম সৌদিআরব শাইখ সালমান আল আওদাহ, শাইখ আওয আল কারনি ও শাইখ আলি আল উমারির শিরচ্ছেদ করার ঘৃণ্য পাঁয়তারায় লিপ্ত। এই তিন ইসলামি চিন্তাবিদের শিরচ্ছেদ করে তাগুত আ-লে সৌদ সৌদি জনগণের মুখে কলুপ এঁটে দিতে চাচ্ছে! তাগুত আ-লে সৌদের এই ঘৃণ্য পাঁয়তারা সম্পর্কে টের পেয়ে গেছে সৌদি জনগণ। ইতিমধ্যেই তাদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠেছে। এক অজানা ভীতি আর শঙ্কায় কাটছে তাদের প্রতিটা মুহূর্ত! এখন উৎকণ্ঠিত পুরো আরবজাতি। ভয়ার্ত গোটা মুসলিমবিশ্ব।
গত বুধবার তাগুত সৌদিআরবের কথিত শাস্তিমূলক আদালতের অধীনে শাইখ সালমান আল আওদাহর গোপন বিচার সংঘটিত হয়। সরকারপক্ষ তার বিরুদ্ধে সাঁইত্রিশটি ভুয়া সন্ত্রাসী অভিযোগ আরোপ করার পর; শাস্তিস্বরূপ তাঁর শিরচ্ছেদ করার আবেদন করে! তদ্রুপ পৃথক পৃথক গোপন বিচারে একই অভিযোগে শাইখ আওয আল কারনি ও শাইখ আলি আল উমারিরও শাস্তিস্বরূপ শিরচ্ছেদের আবেদন পেশ করে! শাইখ সালমান আল আওদাহর ছেলে আবদুল্লাহ আল আওদাহর সূত্রমতে, সৌদি আদালত শাইখ সালমান আল আওদাহর বিচার একমাসের জন্য মুলতবি ঘোষণা করে। আগামী মাসে তাঁর বিচার আবারও অনুষ্ঠিত হবে।
উল্লেখ্য, প্রচণ্ড মানসিক চাপ ও অবহেলার শিকার হয়ে শাইখ আবদুল আজিজ আত তারিফির শারীরিক অবস্থা খুবই নাজুক। আলহায়ির কারাগারের হাসপাতালে তাঁকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অপরদিকে প্রখ্যাত দাঈ শাইখ মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল আরিফির সবধরনের বক্তৃতা ও দাওয়াহর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে তাগুত সৌদি প্রশাসন। শাইখ আরিফি এখন বাক-অবরুদ্ধ! তদ্রুপ আরও অনেককেই সংকীর্ণতার মধ্যে রাখা হয়েছে।
পুনঃউল্লেখ্য, একে একে সৌদিআরবের প্রায়সকল আলেম, দাঈ, রাজনীতিক ও ইসলামি চিন্তাবিদ কারাবন্দি বা নজরবন্দি। শুধুমাত্র 'হক' বলা বা 'হক'র পক্ষে অবস্থান নেয়ার কারণে। তাঁদের কেউ কেউ কারা-হাসপাতালে শয্যাশায়ী, আবার কেউ কেউ খড়গের নিচে মৃত্যুর জন্য প্রহর গণনাকারী! কিন্তু মসজিদে হারামের ইমাম ও খতিব ভাড়াটে শাইখ আবদুর রহমান আস সুদাইস এখন অবধি রাজকীয় আড়ম্বরপূর্ণ শান-শওকত আর বিপুল ঐশ্বর্যের মধ্যে তাগুত আ-লে সৌদের পা চেটেই যাচ্ছেন! বিশ্বকে শান্তির বন্দরের দিকে নিয়ে গমনকারী (!) ট্রাম্প ও সালমানের জুতো বহন করেই চলছেন!
-----
সমকামিতা ভারতে আর অপরাধ নয়: সুপ্রিম কোর্ট
সমকামিতা ভারতে আর অপরাধ নয় বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।
সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বর্ণনা করা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বাতিল করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন।
ব্রিটিশ জমানার এই বিতর্কিত আইনটির সুবাদে 'অপ্রাকৃতিক যৌনতা'র অপরাধে ভারতে কোনও ব্যক্তির ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারতো।
১৮৬১ সালের জারি করা ধারাটি ২০০৯ সালে সমকামিতা অপরাধ নয় বলে রায় দিয়েছিল দিল্লির হাইকোর্ট। তবে তার বিরুদ্ধে আপীল করা হলে ২০১৩ সালে ওই আইনটি বহাল করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ। নিজেদের সেই আদেশ আজ বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
এ সময় আদালতের বাইরে অধিকার কর্মীরা উল্লাস করে ওঠেন। তাদের অনেককে কাঁদতে দেখা যায়।
ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ভারতে এলজিবিটি শ্রেণীভুক্ত পাঁচজন ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা তাদের আবেদনে বলেছিলেন, ভারতীয় দন্ডবিধির সেকশন ৩৭৭ এমন একটি আইন যে কারণে সব সময় তাদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতে হয় - কারণ তাদের যৌনতার দোহাই দিয়ে পুলিশ যখন খুশি তাদের গ্রেফতার করতে পারে।
গত জুলাই মাসে তাদের আবেদনের শুনানি শুরু করেন সুপ্রিম কোর্ট, যা দেশটিতে স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তার বিতর্ক তৈরি করে।
শুনানির একপর্যায়ে একজন বিচারপতি মন্তব্য করেন, ''যৌনতার কারণে কাউকে ভীতির মধ্যে জীবনযাপন করা উচিত নয়।'' যা ভারতের সমকামীদের মধ্যে আশাবাদের সৃষ্টি করে।
সমকামিতাকে কোন অপরাধ হিসাবে গণ্য না করার জন্য ভারতে অনেকেই দাবি তুলেছেন।
যদিও এখনো ভারতে সমকামিতা নিয়ে সংকোচ রয়েছে এবং অনেকেই এটিকে বেআইনি বলে গণ্য করে।
'সেকশন ৩৭৭' বহাল থাকা না থাকার প্রশ্নে ২০১৬ সালে পুনরায় শুনানি গ্রহণ করতে সম্মত হন আদালত। তিনজন জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, এটা সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে তারা মনে করেন।
সেকশন ৩৭৭ কী?
এটি ১৫৭ বছর পুরনো ঔপনিবেশিক আমলের একটি আইন, যেটি ১৮৬১ সালে জারি করা হয়।
সেখানে কিছু যৌন অপরাধকে অস্বাভাবিক অপরাধ বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যার জন্য ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
যেখানে বলা হয়েছে, ''স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে মানুষ,নারী বা কোন পশুর সঙ্গে যৌন মিলন'' করা হলে তা শাস্তিযোগ্য হবে।
অ্যাকটিভিস্টরা বরাবরই অভিযোগ করছেন, দেশের সমকামী এবং তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়কে হয়রানি করতে আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
সমঅধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরণের একটি আইন থাকা মানেই প্রমাণ করে যে, যৌনতার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বৈষম্য করা হচ্ছে।
Wednesday, August 29, 2018
ইসলামের সু-দিন আসন্ন
by উবায়দুর রহমান খান নদভী
বিশ্ব মিডিয়ার দুষ্ট শক্তিটি কত যে নির্লজ্জ তা কল্পনাও করা যায় না। সংবাদ দেখা গেল, আইএস এর প্রধান বাগদাদী নাকি বার্তা দিয়েছেন ইসলামের শত্রুদের ওপর ছুরি চাকু লাঠি যা দিয়ে পার আঘাত কর। সংবাদে কয়েকটি মুসলিম ও আরব দেশের নাম উল্লেখ করে টার্গেটও বলে দেওয়া হয়েছে। পাঠকের হয়তো মনে আছে, বহুদিন আগে কমপক্ষে ১০০ মিডিয়া এমন সংবাদ প্রচার করেছে যে, আবু বকর আল বাগদাদী নিহত হয়েছেন। তার মৃত্যু ধ্বংস ও পরাজয় নিয়ে আনন্দ উল্লাসও কম হয়নি। বড় বড় দেশ তাকে শেষ করার কৃতিত্ব নিয়ে কাড়াকাড়িও করেছে। বলেছে, আইএস পর্ব শেষ। খলীফা দাবীকারী বাগদাদীও শেষ। কিন্তু সাম্প্রতিক দেওয়া তার ‘গায়েবী’ বার্তায় বোঝা যাচ্ছে বিশ্ব ইসলাম বিদ্বেষী শক্তির চক্রান্ত বাস্তবায়নে বাগদাদীর নামটি ব্যবহার করার প্রয়োজন তাদের ফুরিয়ে যায়নি। যেমন, আল কায়েদা, বিন লাদেন, আল আওলাকী ও আইমান আল জাওয়াহেরী এসব নাম পশ্চিমাদের বহু অপকর্মে ব্যবহৃত হয়েছে। তারা প্রকৃতই যে দর্শন নিয়ে নিজেদের সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন, সে বিষয়ে আলোচনা থাকতেই পারে। পশ্চিমাদের দ্বিমত ও বিদ্বেষ থাকাও স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের জড়িত না থাকা বহু ঘটনা পশ্চিমারা নিজেরা ঘটিয়ে তাদের নামে চালিয়ে দিয়েছে এমন ঘটনাও কম নয়। মজার ব্যাপার হলো, আইএস যত মানুষ মেরেছে এর ৯৯ ভাগ মুসলমান। অমুসলিম হত্যা বা ইসরাইলে হামলা আইএসের কার্যতালিকায় নেই। বাংলাদেশে একবার জোর চেষ্টা চলেছিল আইএস আছে তা প্রমাণ করার। সরকার সন্ত্রাসী আছে বলে তাদের দমনে সর্বশক্তি নিয়োগ করলেও আইএস আছে এ কথা এক সেকেন্ডের জন্যও স্বীকার করেনি। কারণ, এতে বহু ঝামেলা আছে। আইএস থাকা মানে ব্যাপক মুসলমান হত্যা, জিহাদের নামে নানা অসভ্যতা আর ইসলামের বদনাম। আইএস কারা, চালায় কারা, এসবই প্রশ্ন হয়ে আছে। জিহাদকে ধ্বংস ও বদনাম করার জন্য তৈরি হয়েছে বহু নকল মুজাহিদ। আফগানিস্তানে প্রচুর হিন্দু মুজাহিদ রূপ নিয়ে তালেবানের হাতে ধৃত হয়েছে। পাকিস্তানে তালেবান সাজ ধরে বহু মুশরিক গোয়েন্দা ধরা পড়েছে। প্রায় ৪০ বছর আফগান প্রতিরোধ লড়াইয়ে প্রথমে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পরে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন মিত্র শক্তি যখন পরাজয়ের দিন গুনছে তখনই সেখানে নকল মুক্তিযোদ্ধা, মুজাহিদ, তালেবান ও আইএস দেখা দিচ্ছে। আইএস নির্মূলের পর, বাগদাদীকে হত্যার পর আবার কয়েকটি মুসলিম রাষ্ট্রের মানুষের ওপর ছুরি চাকু নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ার হুকুম এখন কোন বাগদাদী দিচ্ছেন, এটি এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।
আসলে কোরআন সুন্নাহর অনুসারী প্রকৃত মুজাহিদদের, স্বদেশ স্বজাতির স্বাধীনতা ও সম্মান পুনরুদ্ধারে বিশ্বব্যাপী ন্যায়ের যোদ্ধাদের ধ্বংস করতে দুষমনরাই ডামি মুজাহিদ তৈরি করে। এদের বিপক্ষে কেউ কথা বললে বলে এ লোক জিহাদকে অস্বীকার করছে। কিন্তু দুষমনরা জানে না, কেবল একজন ঈমানদার নয়, দুনিয়ায় কোনো নীতি নিষ্ঠ মানুষই জিহাদকে অস্বীকার করতে পারে না। তাহলে যুগে যুগে ন্যায়ের সংগ্রাম ও মুক্তির লড়াই চলত না। পশ্চিমারা জিহাদকে ভয় পায়। তাই জিহাদী পরিবেশে তারা দালাল ঢুকিয়ে এর যৌক্তিকতা ও পবিত্রতাকে নষ্ট করে। ইহুদী নাসারাদের দীর্ঘ পরিকল্পনা থাকে। তারা মুসলমানের সন্তানদের বাবা মা থেকে আলাদা করে, শরনার্থী বানায় এবং পরে ‘ছেলে ধরা’র মত নিয়ে যায়। অজ্ঞাত স্থানে তাদের লালন পালন করে, হিং¯্র বানায়। ধর্ম ও মনুষ্যত্ব দু’টোই কেড়ে নেয়। এরপর যেখানে প্রয়োজন মনে করে লেবাস পাগড়ী লাগিয়ে পাঠিয়ে দেয়। কাউকে মুজাহিদ বানায়, কাউকে আত্মঘাতী, কাউকে বিশাল ইসলামিক লিডার। আসলে এরা ভাগ্যাহত রোবট মাত্র। তাদের এ খেলা প্রায় ধরা পড়ে গেছে। আসল জিহাদ ও মুজাহিদ কেয়ামত পর্যন্তই থাকবে। আর দুষমনের ইদুর বেড়াল খেলার মুজাহিদ আসবে যাবে। সন্ত্রাসের ঢোলও বাজাতে বাজাতে ফেটে গেছে প্রায়। তারা ধরা খেয়ে গেছে মালয়েশিয়ায়। রাম ধরা খেয়েছে তুরস্কে। পাকিস্তানেও ধরা খাওয়ার পথে। মধ্যপ্রাচ্যের খেলায়ও আখেরে তারাই ধরা খাবে। কারণ, মুসলিম জনগণ সারা পৃথিবীতে একই পথের যাত্রী। তাদের আবেগ ও কর্ম এক কিবলার দিকেই ধাবিত হচ্ছে। পরাশক্তির খেলার ছকে এলোমেলো ভাব। আসল গুটি চালা দু’জাহানের মালিকের পক্ষ থেকে হচ্ছে। আমি কাউকে সহজে মাথায়ও তুলি না, আর সামান্য কারণে মাটিতেও ছুড়ে ফেলি না। তবে আল্লাহর রহমত থেকে কখনোই নিরাশ হই না। তুরস্কে বড় ধরনের ধরা খেয়ে ইসলামের শত্রুরা নতুন অনেক চক্রান্ত করবে এটাই স্বাভাবিক। তারা একের পর এক কৌশলও পাল্টাতে থাকবে। পরিণতি সেটাই হবে, যা আল্লাহ মালিক লিখে রেখেছেন। কিন্তু বর্তমানে দুষমনের গোসসা অনেক বেড়ে গেছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানে এমনকি গোটা আরব জাহানে পাগলা ঘোড়া দাবড়ে দেওয়ার পরেও তারাই ধরাশায়ী। শক্তি ও কৌশলে হেরে গিয়ে তারা এখন আমাদের লাউ গাছ ছিড়ে ফেলছে। গত কয়েকদিনের পশ্চিমা মনস্তত্ব থেকে যা স্পষ্ট। মসজিদে ঢিল মারা, আগুন দেওয়া, পর্দানশিন নারীদের ওপর আচমকা কিল-ঘুষি চালানো, সুন্নতি লেবাসওয়ালা লোকদের বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া, পরনারীর হাত ধরতে অস্বীকার করায় নাগরিকত্ব না দেওয়া ইত্যাদি এখন চলছে। সর্বশেষ আমেরিকায় একজন মুসলিম তরুণীকে চেকিংয়ের নামে এয়ারপোর্টের তিনস্তরের নিরাপত্তারক্ষীদের অমানবিক হয়রানি উল্লেখযোগ্য। সভ্যতার দাবীদার পরাশক্তি কতটুকু নৈতিক অধঃপতিত হলে একজন নারীকে সব যন্ত্রপাতির দ্বারা স্ক্যান করার পরেও তার অন্তর্বাস খুলে তার পিরিয়ডের রক্তমাখা প্যাড দেখার পর তারা নিরাপত্তাবোধ করেছে। নিরাপত্তাহীনতা এখন পশ্চিমাজগতে কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে তা আন্দাজ করা কঠিন। এসবই নিজেদের কৃতকর্মের ফসল। আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, তিউনিসিয়ার মজলুম মানুষের আর্তনাদ কিভাবে রং নিবে তা বলা মুশকিল। তবে বিশ্ববাসী দেখার সুযোগ অবশ্যই পাবে ইনশাআল্লাহ। এই যে সূর্যতাপ, লেলিহান শিখার দাবানল, ঝড়-জলোচ্ছাস, ভূমিধস, বন্যা, সামগ্রিক অস্থিরতা এসবও খোদায়ী পাকড়াও এর সামান্য নিদর্শন মাত্র। অপরদিকে পশ্চিমা জগতে লাখো তরুণ তরুণীর মনের জগতে ইসলামের প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসা যে অকল্পনীয় নীরব বিপ্লব সাধিত হচ্ছে, তার কোনো জবাব নেই। গত কিছুদিনের মধ্যে জার্মানীতে ৩০ হাজার মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছে। ফ্রান্সে ২০ হাজার। গত হজের প্রাক্কালে মার্কিন এক টিভি উপস্থাপিকা ও অভিনেত্রী ইসলাম গ্রহণ করে হজও পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তার আবেগঘন বক্তৃতা বিশ্ব মানসকে ছুঁয়ে যাচ্ছে। ভারতে উগ্র এক নারী আরএসএস নেত্রী ইসলামের বিরুদ্ধে কটাক্ষমূলক বক্তৃতার পরপরই ¯œায়ুরোগে আক্রান্ত হয়ে এখন আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও মুসলিম জাতির কাছে দুঃখপ্রকাশ করে কাতর মিনতি করছেন। আর তার উগ্র ও ভুল তথ্যেপূর্ণ বক্তৃতার জবাব দিচ্ছেন অনেক শিক্ষিত হিন্দু নারী। এসবই সোশাল নেটওয়ার্কে একেরপর এক ভাইরাল হচ্ছে। যাদের কাছ থেকে আশা করা হয়নি এমন শত কণ্ঠে ইসলামের পক্ষে মুসলমানের পক্ষে সমর্থন আসছে। আসাম নিয়ে বাংলায় কথা হচ্ছে। বাংলাদেশ নিয়ে সারা ভারতে কথা হচ্ছে। একবছরের মাথায় অসহায় রোহিঙ্গাদের পক্ষে জাতিসংঘের প্রতিবেদন এসেছে। যাতে বর্মি সেনাপ্রধানসহ ছয় জেনারেলকে দায়ী করা হয়েছে। তাদের বিচারের সম্মুখীন করার প্রস্তাব এসেছে। ফেইসবুক তাদের আইডি বাতিল করেছে। অং সান সু চিকেও দায় মুক্তি দেওয়া হয়নি। বিশ্ব দরবারে চরম অপমান ছাড়াও সে সন্দেহভাজন। ধীর গতিতে হলেও পা পা করে এগুচ্ছে মজলুম মুসলমানের অধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশার যাত্রা। ফুরিয়ে যাচ্ছে আঁধার রাতের দীর্ঘ প্রহর।
এমুহূর্তে শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক ইসলামী কর্ম তৎপরতা বিশ্বব্যাপী যে যেখানে করছেন। নানা নামে, নানা রূপে, নানা পদ্ধতিতে পরিচালিত সকল দীনি কাজকে সমান শ্রদ্ধা করে, পারস্পরিক ঐক্য ও মিল মহব্বত ধরে রেখে এ লম্বা সফরটি আমাদের শেষ করতে হবে। কিছুতেই শত্রুর ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না। শয়তানী সন্ত্রাসে জড়ানো যাবে না। কুফুরী মতবাদে অংশ নিয়ে তাগুতি শক্তির হায়াত বৃদ্ধি করা যাবে না। অস্থায়ী দুনিয়ার সামান্য হালুয়া রুটির লোভে ঈমান ও আদর্শ বিসর্জন দেওয়া চলবে না। অর্থ বিত্ত ও ক্ষমতার উচ্ছিষ্টের লালসায় শত বছরের কণ্টকপূর্ণ হকের পথ চলা থেকে পা ফসকে বাতিলের ধ্বংস গহ্বরে পড়ে গেলে চলবে না। জান্নাতের রাস্তা থেকে অল্পের জন্য অধৈর্য হয়ে জাহান্নামের গর্তে ছিটকে পড়া চলবে না।
খেলাফত হারানোর শত বছরের কষ্ট মুছে দিতে আল্লাহর বেশি সময় লাগে না। কিন্তু তিনি সবচেয়ে বড় ক্ষমতাবানের পাশাপাশি খুবই বড় প্রজ্ঞাবানও বটেন। অসময়ে তিনি কাউকে কিছু দেননা। ত্যাগ তিতিক্ষা ও শিক্ষাগ্রহণ শেষে মানুষ যখন যোগ্য ও প্রস্তুত হয়ে উঠে তখন তিনি তাদের জিম্মাদারী দান করেন। ভুলগুলো শোধরাতে হয়, গুনাহ থেকে তওবা করতে হয়, গাফলত ছেড়ে জাগতে হয়, বিচ্ছিন্নতা থেকে জুড়তে হয়। আল্লাহর কুদরত বড়ই বিচিত্র। তিনি ওহুদ থেকে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদকে বেছে নিয়েছেন আল্লাহর তলোয়ার হিসাবে। আগের জীবন পাল্টে গিয়ে মানুষ কত ডিগ্রি ঘুরতে পারে এর নজির দেখতে হবে ইসলামে। মদীনার শাহানশাহ যাকে সান্নিধ্য দিয়েছেন, সে হোক না পথের ধুলা। একটু পরেই দেখা গেল সেই হয়ে গেছে সাত আসমান ও জমিনের ঈর্ষনীয় বিশ্বনেতা। সাহাবায়ে কেরামের জীবনে এছাড়া আর কি আছে। আমরা হতাশ নই। কবি ইকবালের ভাষায়, ‘হ্যায় ইয়াঁ ইয়ে হাকিকত কিসসায়ে তাতার সে/ পা-সবাঁ মিল গায়া কাবে কো সানাম খানে সে’। মানে, তাতারিদের ইসলাম গ্রহনের ঘটনা থেকে এ বাস্তবতাটিই প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে যে, দেবালয় থেকেও যুগে যুগে বেরিয়ে আসতে দেখা গেছে খানায়ে কাবার প্রহরীদের। ইতিহাস বারবার এমন দৃশ্য দেখেছে। ড. মাহাথির মোহাম্মদ, আনোয়ার ইব্রাহীম, রজব তাইয়েব এরদোগান, ইমরান খান ও তাদের শত সহ¯্র সহকর্মী এবং উম্মতে মোহাম্মদীর ঘোষিত ১৭০ কোটি আর অঘোষিত অগণিত আশাবাদী মানুষের কাকে আমি বাদ দেব। প্রত্যাশার, স্বপ্নের, সম্ভাবনার তালিকা থেকে কাকে ফেলে দেব ভেবে পাই না। কারণ, আল্লাহ বলেছেন, ‘লা তাকনাতু মির রাহমাতিল্লাহ’। তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়োনা। আল্লাহর হাবীব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘হতাশা একধরনের কুফুরী।’ এত আশাবাদের মধ্যে নিরাশার ক্ষুদ্র কণাটিও যেন কোনো মুমিনের অন্তরে না থাকে। কেননা, ‘বিজয়ী তোমরাই হবে, যদি প্রকৃত ঈমানদার হয়ে থাকো।’ আল কোরআনের এ বানী দিয়েই লেখাটি শেষ করতে চাই।
Sunday, August 26, 2018
বড় ভয় হয় !
"তোমাকে" বলতে একটি অদৃশ্য স্পর্শকাতর শব্দ
অন্তরে অন্তস্হলে বেড়ে উঠা নিঃশ্বাসে হৃদয়ের ভাষা
ছোট্ট শব্দের ভয়ঙকর অনুভূতি তবুও সুখের ছন্দ
আমি তোমায় ভালবাসি।
বড় ভয় হয়
যতই বলি মানুষই সেরা অর্থের দুনিয়ায়
তবুও থেকে যায় সন্দেহের বিষ মানবের হৃদয়ে
ভাবি এক বার বলব তোমায়, ফের মন পিছু টানে
আমি ভালবাসি তোমায়।
বড় ভয় হয়
দীর্ঘ জীবনের সঙ্গী তুমি হবে কি আপন
করি পণ যা হবার তা হবে নিয়তি যারে কয়
হয় যদি বদনাম হউক না আরো তবু আশাহত নই
বলব ভালবাসি তোমায়।
বড় ভয় হয়
কোন ভাষায় শুরু করি যদি মনে লাগে কষ্ট
শিশু হতে কৈশরে জাগেনি আশা ভাবিনি কখনও, যৌবনে
বলতে হবে এই তোমাকেই লুকায়িত স্বপ্নের রাণী
তুমি,ভালবাসবে কি গো আমায়।
বড় ভয় হয়
যদি আসে কাল বৈশাখীর ঝড় ভেঙ্গে দেয়
যদি তোমার হৃদয়ে বাসা বাধে অন্য সূখের ঘর
আর যদি ভাবো এ আমি কেমন স্বার্থপর দ্বিধায় রই
বলবো কি তোমায় ভালবাসি বার বার।
বড় ভয় হয়
যদিও চোঁখের চাহনি তোমার আমারি কথা কয়,দেখি
আমার প্রতি তোমার প্রবল আর্কষনের অপরিসীম টান,
ভেবেছি বহুবার এ কি যথেষ্ট নয়,তোমার মন বুঝবার
বলব কি ভালবাসি তোমায় শত বার।
বড় ভয় হয়
এবার হয়তো করবো জয় যা আছে জীবনে
বলবই এবার বার বার চিৎকার করে
জাগিয়ে দেবো পুরো পৃথিবীর মানব কূলে
বলব কেবল
আমি ভালবাসি,বাসছি,বাসবো।
Subscribe to:
Posts (Atom)
মুসলিম উম্মাহ্র অধঃপতনে জাতীয়তাবাদের ভূমিকা
"এক জাতি, এক ভূমি"- এই চেতনা ও আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একদা যে মুসলিম উম্মাহ্ পরিণত হয়েছিল বিশ্বের প্রভাবশালী সভ্যতায় সেই একই ...
জনপ্রিয় পোস্টসমূহ
-
সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদুদী কর্তৃক রচিত ইসলামী pdf বই ডাউনলোড করতে নিচে নামের উপর ক্লিক করুন। অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা ১। অর্থনৈ...
-
মাতৃভাষা ব্যতীত আর কোন্ ভাষা কানের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া পরান আকুল করে? মাতৃভাষা ব্যতীত আর কোন্ ভাষার ধ্বনির জন্য প্রবাসীর কান পিয়াসী থাকে...
-
বইয়ের নাম : মিল্লাতে ইবরাহিমের জাগরণ । বইয়ের মূল নাম : দিফায়ে মিল্লাতে ইবরাহিম । গ্রন্থনা : শাইখ মুদ্দাসসির আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ আরশাদ ল...
-
রজব তাইয়্যেব এরদোগান ! দুই বারের প্রধানমন্ত্রী। এখন দ্বিতীয় মেয়াদে তিনি তুর্কির নন্দিত প্রেসিডেন্ট। দেশ,মুসলিম উম্মাহ, বিলাদুল হ...
-
মেশকাত জামাতের সমস্ত কিতাব বাংলা এর pdf {পিডীএফ} পাবেন আমাদের এই ওয়েবসাইটে । সহস্যাধিক ইসলামিক বইয়ের তালিকা এর মধ্য থেকে আপনার পছন্দের p...







