Monday, April 23, 2018

“জীবন থেকে নেয়া” থেকে”স্টপ জেনোসাইড” আর একজন জহির রায়হান


ব ঙ্গভূমিতে জন্মলাভ করে শত বাধার মাঝে বেড়ে উঠতে হয়ে উঠেছিলো বাংলার এই উজ্জ্বল নক্ষত্রের।তার নামের পরে ছিলো অনেক গুলো পরিচয়।কখনো গল্পকার,কখনো ঔপন্যাসিক কিংবা চলচ্চিত্র পরিচালক।তার কাজগুলো এমনই ছিলো যে আজ ৪ দশক পরে এসেও আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি মাথা উঁচু করে,আর এদেশের ইতিহাস আজো তার কাজের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য।


.
জীবনের অধ্যায়ের কোন পরিচ্ছেদেই তাকে থেমে থাকতে হয়নি কোথায়ও কোন দিন।জীবন অধ্যায়ের প্রতিটি পরিচ্ছেদে প্রতিটি পরিচয়ে নিজেকে রাঙিয়েছেন নিজের মত করে যেখানে আজো তাকে ছুঁতে পারেনি কেউ।তিনি ছিলেন শুধুই একজন,আমাদের একজন জহির রায়হান।
.
একুশের গল্পের তপু আর আমাদের জহির রায়হান,লেখক নিজেই যেন লিখে গিয়ে ছিলেন নিজের ভাগ্যকাব্য।গল্পের তপুর মতই সদা মুখে এক ঝলক আঠার মত হাসি লেগে থাকতো তার।গল্পে তপু যেমন সবাইকে হাসাতে পারতো জহির রায়হান ঠিক তেমনি করে হাসিয়েছিলেন জীবন থেকে নেয়া ছবির মাঝে আর গল্পটাও জমিয়েছিলেন গল্পের তপুর মত করেই।
.
১৯৩৫ সালের ১৯ আগস্ট বর্তমান ফেনী জেলার অন্তর্গত নোয়াখালীর মজুপুর গ্রামে জন্মছিলেন তিনি।১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর তিনি তার পরিবারের সাথে কলকাতা হতে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) স্থানান্তরিত হন।১৯৫০ আমিরাবাদ হাইস্কুল (ফেনী) থেকে মেট্রিক পরীক্ষা দেন তিনি সেই বছরই তিনি যুগের আলো পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করা শুরু করেন।
.
পরবর্তীতে তিনি খাপছাড়া,যান্ত্রিক, সিনেমা ইত্যাদি পত্রিকাতেও কাজ করেন।১৯৫১ কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সরাসরি জড়িত হয়ে পরেন।স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে ঢুকে পড়েন কলেজের গন্ডিতে,ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। ছাত্র অবস্থাতেই ৫২র ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন,উপস্থিত ছিলেন ২১শে ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক আমতলা সমাবেশে। ভাষা আন্দোলন তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল তা প্রমাণ আমরা দেখতে পাই তার পরের জীবনের পরিচ্ছেদ গুলোতে।
.
১৯৫৩ ঢাকা কলেজ থেকে আই.এস.সি পাশ করে ভর্তি হন চিকিৎসাশাস্ত্রে।১৯৫৫ সালে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ "সূর্যগ্রহণ" প্রকাশিত হয়।১৯৫৬ সালে তিনি সম্পাদক হিসেবে প্রবাহ পত্রিকায় যোগ দেন।৫৮ সালে ত্যাগ করেই চিকিৎসাশাস্ত্র পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি করেই সেই শুরু আর থেমে থাকা হয়নি জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত কাজ আর জীবন ২টি একই ভাবে বয়ে চলছিল তার হাত ধরে।
.
চলচ্চিত্র জগতে তার পদার্পণ ঘটে ১৯৫৭ সালে, জাগো হুয়া সাবেরা ছবিতে সহকারী হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে। তিনি সালাউদ্দীনের ছবি যে নদী মরুপথেতেও সহকারী হিসেবে কাজ করেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক এহতেশাম তাকে এ দেশ তোমার আমার এ কাজ করার আমন্ত্রণ জানান, জহির এ ছবির নামসঙ্গীত রচনা করেছিলেন।১৯৬০ সালে তার প্রথম উপন্যাস শেষ বিকেলের মেয়ে প্রকাশ পায়।
.
১৯৬১ সালে তিনি রূপালী জগতে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন কখনো আসেনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে।এই ছবির মধ্য দিয়েই চিত্রনায়িকা হেনা লাহিড়ী সুমিতা দেবীর সাথে পরিণয় হয় তার। ৬২ও৬৩ সালে তিনি সোনার কাজল ও কাঁচের দেয়াল(নিগার পুরস্কার লাভ শ্রেষ্ঠ বাংলা ছবি হিসেবে)নামে ২টি চলচিত্র নির্মান করেন।১৯৬৪ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র সঙ্গম নির্মাণ করেন (উর্দু ভাষার ছবি)এবং একই বছর হাজার বছর ধরে উপন্যাসের জন্য আদমজী পুরস্কার লাভ করেন।
.
পরের বছর তার প্রথম সিনেমাস্কোপ চলচ্চিত্র বাহানা মুক্তি দেন।১৯৬৮ চিত্রনায়িকা কোহিনূর আকতার সুচন্দার সাথে পরিণয় হয়।তিনি ১৯৬৯ সালের গণ অভ্যুত্থানে অংশ নেন, সেই বছরই প্রকাশ পায় তার আরো ২টি উপন্যাস”আরেক ফাল্গুন”(বায়ান্নর রক্তস্নাত ভাষা-আন্দোলনের পটভূমিতে রচিত কথামালা)বরফ গলা নদী (অর্থনৈতিক কারণে বিপর্যস্ত ক্ষয়িষ্ণু মধ্যবিত্ত পরিবারের অসহায়ত্ব গাঁথা)।১৯৭০ সালে নির্মাণ করেন তার অমর চলচ্চিত্র “জীবন থেকে নেওয়া”।
.
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কলকাতায় চলে যান এবং সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে প্রচারাভিযান ও তথ্যচিত্র নির্মাণ শুরু করেন।কলকাতায় তার নির্মিত চলচ্চিত্র জীবন থেকে নেওয়ার বেশ কয়েকটি প্রদর্শনী হয় এবং চলচ্চিত্রটি দেখে সত্যজিত রায়, মৃণাল সেন, তপন সিনহা এবং ঋত্বিক ঘটক প্রমুখ ভূয়সী প্রশংসা করেন। সে সময়ে তিনি চরম অর্থনৈতিক দৈন্যের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও তার চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হতে প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ তিনি মুক্তিযোদ্ধা তহবিলে দান করে দেন।
.
নির্মাণ করতে থাকে মুক্তিযুধের উপর একের পর এক ছবি ।১ম প্রকাশ করা চলচ্চিত্র”স্টপ জেনোসাইড” বিশ্ব দরবারে জানান দেন আমাদের প্রতি অবিচারের,জানিয়ে দেন নিরিহ বাঙালিদের উপর গণহত্যার সেই সব কথা গুলো।নির্মাণ করেন মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে দ্বিতীয় চলচ্চিত্র এ “স্টেট ইজ বর্ন” এবং সবশেষ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ৩য় চলচ্চিত্র “ইনোসেন্ট মিলিয়ন”(পরিচালকঃ বাবুল চৌধুরী)এবং লিবারেশন ফাইটার্স (পরিচালকঃ আলমগীর কবীর)-এর তত্ত্বাবধান।
.
তারপর দেশ স্বাধীন হবার পর দেশে ফিরেই ১৯৭২ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যা তদন্ত কমিটি গঠন করেন।পরে তার নিখোঁজ ভাই শহীদুল্লাহ কায়সারকে খুঁজতে শুরু করেন যিনি স্বাধীনতার ঠিক আগমুহূর্তে পাকিস্তানী আর্মির এদেশীয় দোসর আল বদর বাহিনী কর্তৃক অপহৃত হয়েছিলেন।১৯৭২ সালের ৩০ শে জানুয়ারী ভাইয়ের সন্ধানে মীরপুরে যান এবং সেখান থেকে আর ফিরে আসেননি জহির রায়হান। মীরপুর ছিল ঢাকা থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত বিহারী অধ্যুষিত এলাকা এবং এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে যে সেদিন বিহারীরা ও ছদ্মবেশী পাকিস্তানী সৈন্যরা বাংলাদেশীদের ওপর গুলি চালালে তিনি নিহত হন।
.
তার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য গল্পগুলো হলো সোনার হরিণ,সময়ের প্রয়োজনে,একটি জিজ্ঞাসা,হারানো বলয়,বাঁধ,নয়াপত্তন,মহামৃত্যু,ভাঙাচোরা,অপরাধ,স্বীকৃতি্‌,অতি পরিচিত,ইচ্ছা অনিচ্ছা,জন্মান্তর,পোস্টার,ইচ্ছার আগুনে জ্বলছি,কতকগুলো কুকুরের আর্তনাত,সংলাপ,দেমাক,ম্যাসাকার,একুশের গল্প এবং উপন্যাস আর কত দিন,কয়েকটি মৃত্যু,একুশে ফেব্রুয়ারি ইত্যাদি।তিনি ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার ,৭৭ সালে চলচ্চিত্রে মরণোত্তর একুশে পদ,১৯৯২ সালে সাহিত্যে মরণোত্তর স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার লাভ করেন।
.
গল্পের তপুকে শেষ দেখা গিয়েছিলো হাইকোর্টের মোড়ে আর আমাদের তপুর স্রষ্টাকে মিরপুরে বিধাতার কি অদ্ভুত মিল গল্পের তপুর লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি চার বছর।পরে খুঁজ মিলেছিলো তার কঙ্কাল ঠিক তেমত করেই চার দশক পরে তপুর স্রষ্টার খোঁজ মিলেছিলো নিথর কঙ্কালে।
.
এরপর এই স্বাধীন বঙ্গে অনেক ২১ এলো গেলো কেউ আমাদের জহির রায়হানের মত করে একুশের গল্প বলেনি,বলেনি হারিয়ে যাওয়া তপুকে খুজে পারাব কথা কোন পড়ন্ত বিকেলে।কত বিকেলে সবুজ ঘাসের গালিচায় আমি তপুকে রেণুর সাথে আঁকার চেষ্টা করেছি,কিন্তু পারিনি।শত ছবির মাঝে খুজে ফিরে আজো জহির রায়হান এর ছায়া খুজে পাইনি,হয়তো আর পাবো ও না আর কোন দিন।
.
জহির রায়হান এই বঙ্গের শত শত সন্তান হাজারো কাজের মাঝে তোমাকে যে খুজে ফিরে আজো সে কথা তুমি জানো কিনা জানি না, শুধু প্রার্থনা ; যেখানেই থাকো ভালো থাকো।২১ এর গল্পের হারিয়ে যাওয়া তপুর মত করে তোমাকে খুঁজে পাবো কোন এক শেষ বিকেলে সেই আশা করি না তবে যদি আবার কোন দিন এই বঙ্গে তপুর স্রষ্টা ফিরে আসতো।

Saturday, April 21, 2018

তপ্ত বালু


খু ব বলতে ইচ্ছে করছে।
 অনেক লেখতেও ইচ্ছে করছে।
বহু কথা জমা আছে।
হাতে মাশাল্লা জোড়ও আছে।
তবুও লিখবো না।
কিছু বলবো না! 

কীভাবে বলবো?! 
কী করে লিখবো?! 
কারবালার নির্মম কাহিনী লেখা হয়েছিল বলে ইতিহাস আজও সেই নির্মমতাকে সাক্ষ্য দিয়ে যাচ্ছে।
আমার এই কষ্টের কাহিনী হয়ত কোথাও লেখা হবে না।কিন্তু আজীবন আমার হৃদয়ে আজকের এই কারবালার ঘটনাটা মরুসাইমুমের তপ্ত বালু উড়িয়ে যাবে।
লেখক: মাহবুব বিন হাবীব

Thursday, April 19, 2018

আমি স্বাধীন




আ  জ আমি নির্ভয়।
 আজ আমি স্বাধীন।
আজ আমি নিঃশ্বাস নেব মুক্ত বাতাসে।
স্বাধীনভাবে।
আজ তুমি আর পারবে না আমার কণ্ঠরোধ করতে,পারবে না অপরাধের শৃঙখলে আবদ্ধ করতে। 
হয়ত তুমি ব্যর্থ চেষ্টা করতে পারো,তবে কোনো লাভ হবে না।

কারণ আজ যে আমি মুক্ত। 
আজ যে আমি স্বাধীন। 
এই স্বাধীনতার অপেক্ষায় কেটে গেছে কতগুলো দিন!! কিন্তু পারিনি; অন্ধকার পঁচা আর স্যাঁতস্যাঁত ওই প্রকোষ্ঠেই আমাকে ধিক্কারের বোঝা নিয়ে দিন পার করতে হয়েছে।
লেখক: মাহবুব বিন হাবীব

Monday, April 16, 2018

আধুনিক ভালোবাসা


বন্ধুত্ব এখন ফ্যাশন। ভালোবাসা ফ্যাশনেবল আইটেম। পাঁচ-ছয়জন বন্ধু না নিয়ে ঘুড়লে যেন ব্যক্তিত্বই যাহের হয় না।আপনি যে কেউকেটা, এটা বোঝানোর জন্য দশ-পনেরোজন বন্ধু নিয়ে না ঘুড়লে হয়! সবার বন্ধু আছে আপনারও একটা থাকা প্রয়োজন। ব্যস! হ্যান্ডসাম দেখে একটা মানুষ খুঁজে  আর পকেটে "মালটাল" থাকলেতো কথাই নাই। ফূর্তি করো। মাস্তি করো।টাইম পাছ।
বন্ধুতে বিপদে পড়েছে; হয়ত চক্ষুলজ্জায় এতটুকু বলতে পারে;-খোদার কাছে দোয়া কর,টেনশন নিছ্না। 
অথবা এতটুকুও নাও বলতে পারে। 
আবার সন্ধান।নতুন কোনো মালদার বন্ধুর খোঁজে.........


এবার আসা যাক কপোত-কপোতির কথায় .... 
"আমি তোমাকে আমার প্রাণের চাইতেও বেশী ভালোবাসি~~~~~ "
"লক্ষীটি রাগ করে না ~~~~~"
" যতদিন এদেহে প্রাণ আছে, ততদিন এ দেহমন জুড়ে শুধু তুমি~~~~" 
বোটানিক্যাল গার্ডেন, রমনাপার্ক,টিএসসি মোড়ে কান পাতলে ইথারে ভেসে আসা এরকম হাজারো লাইলি-মজনু মার্কা কথা শুনতে পাবে।তুমি হয়তো ভাবতে পারো, যে দেশে "যত্রতত্র" ভালোবাসার ছড়াছড়ি সে দেশে কি ডিভোর্সের মত ঘটনা, স্ত্রী স্বামীকে গলাটিপে হত্যা,প্রেমিক প্রেমিকাকে সাতাশ টুকরো করার কত জঘন্য ঘটনা ঘটতে পারে!!! অসম্ভব!!! 
আরে! যদি এই সমস্ত মানুষগুলোর অন্তর খুলে তোমার সামনে রাখা হয়,তাহলে.... বমি করবে!!
লেখক :মাহবুব বিন হাবীব

Saturday, April 14, 2018

মধ্যম আয়ের দেশ


বাংলা ১৩৫০ সনের দুর্ভিক্ষ আমি দেখিনি, দেখিনি ঘড়ের লজ্জাবতি নারীদের চুরি করতে,শুনিনি সরকারী লঙ্গরখানায় কঙ্কালসার মানুষদের চেঁচামেচি।
পাইনি ক্ষুধায় মরে যাওয়া পঁচা লাশের গন্ধ।
তবে আমি পড়েছি; পড়েছি আর অনুভব করেছি।
লজ্জা পেয়েছি ঘরের ঝি-বউরা পর্যন্ত ছিচকে চুরির করার জন্য।
 শুনেছি লঙ্গরখানায় সম্ভ্রান্ত পরিবারের চেঁচামেচি।
মানুষ পঁচার গন্ধও আমি পেয়েছি।



 রাস্তায় নেমে হাত পেতে থাকা কঙ্কালসার বাচ্চাটিকে দেখে মেলাবার চেষ্টা করেছি!!
 ফলাফল ; পার্থক্য পাইনি।শুধু এতটুকু ;সেটা ১৩৫০ আর এটা ১৪২৫। 
তখন শোষক ছিল ইংরেজ ফিরিঙ্গিবাজ এখন শোষক হলেন স্বদেশীয় বাঙ্গালি। 
কিন্তু আফসোসের কথা ; লোকে জানে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নিত হয়েছি।

Friday, April 13, 2018

হরেকরকম ভালোবাসা


মানুষ ভালোবাসার পাগল। মানুষ কাউকে না কাউকে ভালবেসে জীবন বাঁচার স্বপ্ন দেখে। কেউ বাবাকে ভালোবাসে কেউ আবার মাকে,কেউ আবার স্বপ্ন দেখে আদরের ছোট্ট বোনকে নিয়ে। কেউ আবার গুদুসুদু ভাইকে নিয়ে।কেউ জীবন সাজায় পাশের বাড়ির ভদ্র ছেলে রহিম কে নিয়ে।কেউ আবার গলির বখাটে ছেলে মন্টুকে নিয়ে।কেউ জীবন ধারনের খোরাক খুঁজে পায় গাছের মাঝে কেউ আবার দালানের মাঝে।কেউ পাখিকে আবার কেউ বিড়ালকে নিয়ে।কেউ ভালোবাসে এসমস্ত কিছুর স্রষ্টা আল্লাহকে।

সবাই ভালোবাসে, কাউকে না কাউকে ভালোবাসে, তবে এই হরেকরকম ভালোবাসার শেষটা কোথায়?

ভালোবাসা মানেই কি ভালোকিছু?আপনার ভালোবাসার শেষ পরিনামটা নির্ভর করবে আপনার ভালোবাসার মানুষ বা বস্তুটির উপর; আপনি বাবাকে ভালোবেসে তার খেদমত করে যান,দুনিয়াতে অনাহারের কষ্ট পাবেন না আর আপনি যদি সকল কিছুর স্রষ্টা মহান রবের প্রেমে পড়ে যান তাহলে গোটা দুনিয়াটাই আপনার। আর জান্নাত....

আজ দুনিয়াতে ভালোবাসা আর বন্ধুত্বের ছড়াছড়ি ; বাসস্ট্যন্ডে,কলেজ ক্যম্পাসে,রাস্তার মোড়ে। জেনারেল স্টোরে গড়ে উঠছে হাজারো বন্ধুত্ব, ফুঠছে কতশত ভালোবাসা, কিন্তু কিছুদিন পরে এদের অবস্থান হচ্ছে রমানাপার্ক,সংসদ ভবন বা হোটেল গুলোতে,এর কিছুদিন পর এদের অবস্থান হয়......
সেদিন আমাকে কেউ একজন আফসোস করে বললোঃআহ্!পৃথিবীতে এখন ভালোবাসা নেই!!
আমি খুব অবাক হলাম; তাহলে ক্যাফেতে বন্ধুদের আড্ডা আর ক্যাম্পাসের মাঠে গানের আড্ডার বন্ধুদের কি তার কাছে বন্ধু মনে হয় না! বোটানিক্যাল গার্ডেন আর রমনা পার্কের বেঞ্চে বেঞ্চে কপোত-কপোতির খোলামেলা সম্পর্কেও কি তার কাছে ভালোবাসা মনে হয় না!!
তার মতে এটা নাকি "ভালোবাসি" বোঝানোর একটা নিদর্শন।
অবাক হলাম।গোলকধাঁধায় পড়লাম।
ভালোবাসাটা আসলে কী!! এর শেষ পরিণতি কোথায়!?
রেস্টুরেন্টে এক মগে কফি কোল্ড কফি খাওয়ার নামই কী বন্ধুত্ব বা ভালোবাসা!!?
অথবা কোনো পার্কে বা নির্জনে লজ্জার আবরণকে ছিঁড়ে ফেলে দুটি ঠোঁট, দুটি নাক বা দুটি শরীর মিলে একাকার হয়ে যাওয়ার নামই কী ভালোবাসা.....
লেখক : মাহবুব বিন হাবীব 

Monday, April 9, 2018

ক্ষণিকের ভালোবাসা



ভালোবাসার মাঝে চিড়-ফাটল তখনই সৃষ্টি হয় যখন ভালোবাসার মানুষটি চরমভাবে অবহেলিত ও অবমূল্যায়িত হন।তাই ফাটল সৃষ্টির প্রকৃত কারণ না জেনে ভালোবাসার মানুষটিকে ভুল বুঝা আদৌ উচিৎ নয়।ভালোবাসা অটুট রাখতে উভয়েরই সমান ভূমিকা রাখা চাই।
লেখক : মাহবুব বিন হাবীব

মুসলিম উম্মাহ্‌র অধঃপতনে জাতীয়তাবাদের ভূমিকা

"এক জাতি, এক ভূমি"- এই চেতনা ও আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে একদা যে মুসলিম উম্মাহ্‌ পরিণত হয়েছিল বিশ্বের প্রভাবশালী সভ্যতায় সেই একই ...

জনপ্রিয় পোস্টসমূহ